শিশুর ডায়রিয়া কী? শিশুর ডায়রিয়া হলে কী খাওয়াবেন? খাবার তালিকা, স্যালাইন ও করণীয়
শিশুর ডায়রিয়া হলে কী খাওয়াবেন, কোন খাবার এড়াবেন, কীভাবে ওআরএস/স্যালাইন খাওয়াবেন এবং কখন ডাক্তার দেখাবেন – সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন।
ডায়রিয়া হলো দিনে তিনবার বা তার বেশি পাতলা পায়খানা হওয়া। এটি সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, দূষিত খাবার বা পানির কারণে হয়ে থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো পানি শূন্যতা (Dehydration)।
শিশুর ডায়রিয়া হলে কী কী খাওয়াবেন?
১. ওআরএস (ORS)
ডায়রিয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করা।
- প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর শিশুকে ওআরএস খাওয়ান।
- ২ বছরের কম বয়সী শিশু: ৫০-১০০ মিলি।
- ২ বছরের বেশি শিশু: ১০০-২০০ মিলি।
২. বুকের দুধ
যদি শিশু বুকের দুধ খায়, তাহলে বুকের দুধ বন্ধ করবেন না। বরং আগের চেয়ে বেশি বার খাওয়ান।
৩. কলা
কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ এবং ডায়রিয়ায় হারিয়ে যাওয়া খনিজ পূরণে সাহায্য করে।
৪. ভাত ও খিচুড়ি
নরম ভাত, পাতলা খিচুড়ি বা ভাতের মাড় শিশুর জন্য ভালো খাবার।
৫. আলু
সেদ্ধ আলু সহজে হজম হয় এবং শিশুকে শক্তি দেয়।
৬. সুজি বা ওটস
হালকা করে রান্না করা সুজি বা ওটস শিশুর পেটের জন্য উপকারী।
৭. স্যুপ
মুরগির স্যুপ বা সবজি স্যুপ শরীরে পানি ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
৮. দই
৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুকে অল্প পরিমাণ টক দই দেওয়া যেতে পারে, কারণ এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে।

কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন?
❌ কোমল পানীয় বা সফট ড্রিংকস
❌ অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার
❌ ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার
❌ অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার
❌ কাঁচা বা অস্বাস্থ্যকর খাবার
ডায়রিয়ার সময় শিশুর জন্য একদিনের খাদ্য তালিকা
সকাল: বুকের দুধ বা দুধ, কলা
দুপুর: নরম ভাত ও মুরগির স্যুপ
বিকেল: ওআরএস ও দই
রাত: খিচুড়ি বা সেদ্ধ আলু
কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
- শিশুর চোখ বসে যাওয়া
- বারবার বমি হওয়া
- প্রস্রাব কমে যাওয়া
- শিশুর খুব দুর্বল বা অচেতন হয়ে যাওয়া
- পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া
- উচ্চ জ্বর
- ৩ দিনের বেশি ডায়রিয়া চলতে থাকা
ডায়রিয়া প্রতিরোধের উপায়
✔ হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
✔ বিশুদ্ধ পানি পান করান।
✔ খাবার ভালোভাবে রান্না করে দিন।
✔ শিশুকে সময়মতো টিকা দিন।
✔ শিশুর খাবার ও বোতল পরিষ্কার রাখুন।
উপসংহার
শিশুর ডায়রিয়ার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে ওআরএস, বুকের দুধ, পর্যাপ্ত পানি এবং সহজপাচ্য খাবার দিলে দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়। তবে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে বা অবস্থা খারাপ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।











