শিশুর কৃমি হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার | শিশু স্বাস্থ্য টিপস
শিশুর কৃমি কী?
কৃমি হলো এক ধরনের পরজীবী জীব, যা মানুষের অন্ত্রে বাস করে এবং খাবারের পুষ্টি শোষণ করে বেঁচে থাকে। শিশুদের মধ্যে কৃমির সংক্রমণ খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, বিশেষ করে ১ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
বাংলাদেশের অনেক শিশুই বছরে একাধিকবার কৃমিতে আক্রান্ত হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি শিশুর বৃদ্ধি, পুষ্টি এবং মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শিশুর কৃমি হওয়ার প্রধান কারণ
১. হাত না ধুয়ে খাওয়া
খাওয়ার আগে বা টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে হাত না ধুলে কৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
২. নোংরা পরিবেশে খেলাধুলা
মাটি, বালি বা নোংরা স্থানে খেলাধুলার সময় শিশুর হাতে কৃমির ডিম লেগে যেতে পারে।
৩. অপরিষ্কার খাবার খাওয়া
ভালোভাবে ধোয়া হয়নি এমন ফল, সবজি বা দূষিত খাবার কৃমির সংক্রমণের অন্যতম কারণ।
৪. অপরিষ্কার পানি পান করা
দূষিত বা ফুটানো হয়নি এমন পানি থেকে কৃমি হতে পারে।
৫. নখ বড় রাখা
শিশুদের নখের মধ্যে ময়লা জমে থাকে এবং সেখান থেকে কৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
৬. খালি পায়ে হাঁটা
কিছু ধরনের কৃমি ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে, বিশেষ করে খালি পায়ে মাটিতে হাঁটলে।
শিশুর কৃমির লক্ষণ
- পেটে ব্যথা
- ক্ষুধামন্দা
- ওজন না বাড়া বা কমে যাওয়া
- বমি বমি ভাব
- রাতে ঘুমের মধ্যে দাঁত ঘষা
- মলদ্বারে চুলকানি, বিশেষ করে রাতে
- দুর্বলতা ও ক্লান্তি
- রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া)
- বারবার অসুস্থ হওয়া
- পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়া
কৃমি হলে কী ক্ষতি হতে পারে?
পুষ্টিহীনতা
কৃমি শিশুর শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে নেয়, ফলে অপুষ্টি দেখা দেয়।
রক্তশূন্যতা
বিশেষ কিছু কৃমি রক্ত শোষণ করে অ্যানিমিয়ার কারণ হতে পারে।
শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
দীর্ঘদিন কৃমি থাকলে শিশুর উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি কমে যেতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
শিশু বারবার অসুস্থ হতে পারে।
শিশুর কৃমির প্রতিকার
১. নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়ানো
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর কৃমির ওষুধ খাওয়ানো উচিত।
২. হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা
খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।
৩. নখ ছোট রাখা
শিশুর নখ নিয়মিত কেটে পরিষ্কার রাখতে হবে।
৪. নিরাপদ পানি পান করা
ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে।
৫. পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন খাবার খাওয়ানো
ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়াতে হবে।
৬. জুতা পরার অভ্যাস করা
বাইরে গেলে খালি পায়ে না হাঁটতে উৎসাহিত করুন।
কৃমি প্রতিরোধে করণীয়
✔️ নিয়মিত হাত ধোয়া
✔️ নখ পরিষ্কার রাখা
✔️ বিশুদ্ধ পানি পান করা
✔️ পরিষ্কার খাবার খাওয়া
✔️ স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করা
✔️ বছরে অন্তত দুইবার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃমির ওষুধ গ্রহণ করা।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
- শিশুর ওজন দ্রুত কমে গেলে
- মলে রক্ত দেখা গেলে
- তীব্র পেটব্যথা হলে
- বমি বন্ধ না হলে
- খুব বেশি দুর্বল হয়ে গেলে
- কৃমির ওষুধ খাওয়ার পরও সমস্যা থেকে গেলে
উপসংহার
শিশুর কৃমি একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলা করার মতো সমস্যা নয়। সঠিক পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাবার এবং নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধের মাধ্যমে এই সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিভাবকদের সচেতনতা শিশুকে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।











